শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪:২১ পিএম, ২০২৫-১১-১৩
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রতিযোগিতা নিজেকে আবিষ্কারের এক সুযোগ। বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জনপ্রিয় শিশু প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’ দেশের শিশু ও কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সেই সুযোগ তৈরি করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের শাপলা হলে ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘শিশুদের জন্য আজকের এই অর্জন তাদের জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত। এটি তাদের আরও এগিয়ে যেতে, নিজেদের আবিষ্কার করতে অনুপ্রাণিত করবে। এ প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্যই হলো নিজেকে আবিষ্কার করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়বে দেশের অগণিত ঘরে। এই উৎসব শুধু উপস্থিত শিশুদের নয়, তাদের প্রতিটি পরিবারকেও আনন্দিত করবে—যারা ভালোবাসা ও প্রত্যাশা নিয়ে তাদের সন্তানদের সাফল্য দেখেছে।’
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, প্রতিটি শিশুর অর্জন—যত ছোটই হোক না কেন—একটি অনুপ্রেরণার মাইলফলক।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতায় সারা দেশের হাজারো শিশু অংশ নেয়। নাচ, গান, আবৃত্তি, কৌতুক, গল্প বলা, অভিনয়সহ মোট ১২টি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
আঞ্চলিক ও বিভাগীয় পর্ব শেষে নির্বাচিত প্রতিযোগীদের নিয়ে হয় চূড়ান্ত পর্ব।
আজ প্রধান উপদেষ্টা ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপের সেরা দুই বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন। ‘ক’ গ্রুপে টাঙ্গাইল জেলার প্রেয়সী চক্রবর্তী এবং ‘খ’ গ্রুপে সুনামগঞ্জ জেলার শুভ মিতা তালুকদার চ্যাম্পিয়ন হয়। তারা প্রত্যেকে একটি ক্রেস্ট ও তিন লাখ টাকার চেক গ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রতিযোগিতা শিশুদের চরিত্র ও দৃঢ়তা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিজয়ীরা যেমন উৎসাহের যোগ্য, তেমনি যারা জয়ী হতে , তারাও ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী থেকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পায়।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘যারা চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছাতে পারেনি, তারাও প্রশংসার দাবিদার। কারণ কোনো শিশু যখন ভাবে— ‘আমি কেন না?’— তখন সেই প্রশ্নই তাকে বদলে দেয়, তাকে অনুপ্রাণিত করে ভবিষ্যতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুরা প্রশ্ন করতে শেখে, চ্যালেঞ্জ নিতে শেখে, বুঝতে শেখে যে তারা এমন কিছু করতে পারে যা অন্যরা পারে না। এভাবেই তাদের আত্মবিশ্বাস ও কল্পনাশক্তি বেড়ে ওঠে।’
প্রধান উপদেষ্টা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁরা এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতাকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। তিনি প্রতিযোগিতাটিকে আরও বিস্তৃত করার জন্য সরকারের পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতা জাতির রূপান্তরকে এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে নিয়ে যাবে।’
অধ্যাপক ইউনূস প্রতিযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, ফ্যাশন ডিজাইন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, লেখালেখি ও ক্রীড়া— এসব ক্ষেত্রেও এমন প্রতিযোগিতা আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।
“আমরা কেন প্রতিযোগিতাকে কেবল কয়েকটি ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রাখব? শিশুদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সাহিত্য কিংবা ব্যবসা আবিষ্কারের সুযোগ দিন। এমনকি ফ্যাশন ডিজাইন বা রান্নাও হতে পারে সৃজনশীলতার ক্ষেত্র,” বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত— কোনো শিশুই যেন পিছিয়ে না থাকে। প্রতিটি শিশুর মধ্যে বিশেষ কিছু আছে। আমাদের কাজ হলো তা আনন্দের সঙ্গে, কোনো চাপ ছাড়াই, আত্ম-আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে খুঁজে বের করা।’
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের শিশু ও তরুণদের অনুপ্রাণিত করার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘যেভাবে আমরা বাংলাদেশের সেরাদের মধ্যে সেরা হতে চাই, তেমনি আমরা চাই বিশ্বের সেরাদের মধ্যেও জায়গা করে নিতে।’
বক্তৃতার শেষে তিনি সকল বিজয়ী, অংশগ্রহণকারী, অভিভাবক, শিক্ষক, আয়োজক এবং বিচারকমণ্ডলীর সদস্যদের অভিনন্দন জানান।
বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ ও বাংলাদেশ বেতার অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে।
‘নতুন কুঁড়ি’ বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’-এর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে বৃহস্পতিবার ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’-এর বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপের সেরা দুই বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন। ‘ক’ গ্রুপে টাঙ্গাইল জেলার প্রেয়সী চক্রবর্তী এবং ‘খ’ গ্রুপে সুনামগঞ্জ জেলার শুভ মিতা তালুকদার চ্যাম্পিয়ন হয়। তারা প্রত্যেকে একটি করে ক্রেস্ট এবং ৩ লাখ টাকার চেক গ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতায় সারা দেশের হাজারো শিশু অংশ নেয়। নাচ, গান, আবৃত্তি, কৌতুক, গল্প বলা, অভিনয়সহ মোট ১২টি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় আয়োজন নতুন কুঁড়ি। যার মাধ্যমে একসময় দেশের সংস্কৃতি অঙ্গন পেয়েছিল অনেক গুণী ও জনপ্রিয় শিল্পী। উপমহাদেশের সর্বপ্রথম ও সর্ববৃহৎ রিয়েলিটি শো হিসেবে ১৯৭৬ সালে এটি চালু হয়। শিশু-কিশোরদের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহিত করা এবং তাদের জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য।
পরবর্তীতে বিটিভি রঙিন যুগে প্রবেশের পর ৮০ ও ৯০ দশক পেরিয়ে ২০০৫ পর্যন্ত প্রতিযোগিতাটি চালু ছিলো।
সুদীর্ঘ ২০ বছর পর বর্তমান অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ঐকান্তিক নির্দেশনা ও ইচ্ছায় নতুন উদ্যম ও প্রত্যয় নিয়ে নতুন কুঁড়ি ২০২৫-এর যাত্রা শুরু হয়েছে যা একটি নতুন প্রেরণা ও পুনর্জাগরণ।
এবার অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যেখানে ৩৯ হাজার প্রতিযোগী অংশ নেয়। ৬৪ জেলাকে ১৯টি অঞ্চলে ভাগ করে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আঞ্চলিক পর্ব থেকে ক ও খ শাখা মিলিয়ে সব ক্যাটাগরিতে প্রায় ১৪ হাজার প্রতিযোগী বিভাগীয় পর্যায়ে উন্নীত হয়।
এরপরে শুরু হয় নতুন কুঁড়ির বিভাগীয় বাছাই পর্ব। দেশের আটটি বিভাগে একযোগে চলে এই পর্বের অডিশন। সাধারণ ও উচ্চাঙ্গ নৃত্য, দেশাত্মবোধক গান, হামদ-নাত, নজরুল ও রবীন্দ্র সংগীত, আবৃত্তি, গল্পবলা, কৌতুকসহ মোট ১২ টি বিষয়ে অডিশন চলে।
বিভাগীয় পর্যায় শেষে শুরু হয় চূড়ান্ত বাছাই পর্ব। আটটি বিভাগ থেকে ১ হাজার ৪০ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিযোগী শিশু-কিশোররা আসে নানা রঙে, নানা সাজে। সারা দেশ থেকে আসা ক্ষুদে সব মেধাবী নৃত্যশিল্পীরা তাদের নাচের কসরত দেখায়।
জন্ম থেকে পাওয়া একটি মাত্র পা নিয়ে শারীরিক অক্ষমতাকে জয় করে এই প্রতিযোগিতায় অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চল থেকে আসা একজন নৃত্যশিল্পী।
এরপর চূড়ান্ত বাছাই থেকে উত্তীর্ণ ২৭৯ প্রতিযোগী সেরা ১০ পর্বে অংশগ্রহণ করে। এই পর্ব থেকে প্রতিটি শাখার সব ক্যাটাগরির সেরা পাঁচজন বাছাই করা হয়।
সবশেষে কাঙিক্ষত ফাইনাল। ফাইনাল মানেই ছিল তুমুল প্রতিযোগিতা।
এর মধ্য দিয়ে আমরা বিজয়ী পেয়েছি- ক বিভাগে ৩৬, খ বিভাগে ৩৭ আর সেরা ১০ নিয়ে একঝাঁক ‘নতুন কুঁড়ি’। যাদের অনেকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল।
এদের মধ্যে দুই শাখায় দুই সেরা বিজয়ী প্রধান উপদেষ্টার হাত থেকে পুরষ্কার গ্রহণ করবেন।
‘নতুন কুঁড়ি’ মঞ্চ থেকে উঠে এসেছেন অসংখ্য গুণী শিল্পী। আজ যারা বাংলাদেশের নাটক, সংগীত, নৃত্যসহ সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে উজ্জ্বল নক্ষত্র, তাদের অনেকেরই যাত্রা শুরু ‘নতুন কুঁড়ি’ থেকে।
নুসরাত ইমরোজ তিশা, রুমানা রশিদ ঈষিতা, মেহের আফরোজ শাওন, কনকচাঁপা, শামীমা ইয়াসমিন দিবা, রাহাত আজিম, আজাদ রহমান শাকিল, আজমিরী সুলতানা হলী, সিহান মনিরুল হাসান, শাহনাজ চৌধুরী লুনা, রুদাবা আদনীন কুমকুম, গায়ক সামিনা চৌধুরী, হেমন্তী রক্ষিত দাস, নৃত্যশিল্পী চাঁদনী- এমন অসংখ্য পরিচিত মুখ এই প্রতিযোগিতার পথ ধরে উঠে এসেছেন। কেউ সংগীতে, কেউ অভিনয়ে, কেউ আবার নৃত্যে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। তাদের অনেকে আজ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় বহন করছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited